|
রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থা সংক্রান্ত তথ্য
প্রতিষ্ঠা বর্ষ ঃ- ১৮৯৬ ইং সাল
পুরাতন নথীপত্র না থাকার কারণে প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মকর্তাদের নাম ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৩৮ সাল হতে যারা রাজশাহী ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তাঁদের নাম নিম্নে দেয়া হল ঃ- বাবু রনজিৎ কুমার সরকার-১৯৩৮-৪০, বাবু মিহির ভায়া-১৯৪০-৪২, ডাঃ ভূপেন ভায়া-১৯৪২-৪৫, বাবু রনজিৎ কুমার সরকার-১৯৪৫-৪৭, জনাব কামারুজ্জামান (পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী)-১৯৪৮-৫১, জনাব রিয়াজউদ্দিন-১৯৫১-৫৩, ডঃ এ.আর.মল্লিক (পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রী)- ১৯৫৩, জনাব সিরাজুল ইসলাম- ১৯৫৩-৫৬, ক্যাপটেন সামসুল হক-১৯৫৭-৫৮, জনাব এ.ওয়াই.এম. মনিরুজ্জামান- ১৯৫৯-৬১, এডভোকেট সেকেন্দার বখত্- ১৯৬১-৬২, জনাব এম.এ. হাদী- ১৯৬২-৬৮, জনাব জাফর ইমাম-১৯৬৯, জনাব নুরুন্নবী চাঁদ -১৯৭২-৭৭, জনাব জাফর ইমাম-১৯৭৭|
ক্রীড়া কার্যক্রম
(ইংরেজ আমল হতে পাকিস্তান পর্যন্ত)
জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিষ্ঠাকাল হতে শুরু করে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ক্রীড়া কার্যক্রম ফুটবল এবং ভলিবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ঐ সময় কেবল মাত্র ফুটবল লীগ প্রতিযোগিতা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হত। তবে ফুটবল লীগ প্রতিযোগিতা ছাড়া ও কিছু নক আউট প্রতিযোগিতা সহ প্রদর্শণী খেলারও আয়োজন করা হত ঃ- বীণা পানি শীল্ড, কুমুদিনি কাপ, জে.এম. বোস কাপ, নাজীর মেমোরিয়াল শীল্ড, প্রদর্শণী খেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য খেলা ছিল ১৯৩৬ সালে জেল মাঠে অনুষ্ঠিত (বর্তমান মনিবাজার সংলগ্ন মাঠ) ইংল্যান্ড হতে আগত কোরিনথিয়ান বনাম কোলকাতার ক্যামোরিয়ান ক্লাবের খেলা।
১৯৬০ সাল হতে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমের পরিধি ধিরে ধিরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৬০ সালে ফুটবল লীগের পাশাপাশি প্রথম বারের মত শুরু করা করা হয় ক্রিকেট, ভলি এবং হকি লীগ প্রতিযোগিতা।
eZ©gvb †cÖ¶vcU
আধুনিক ক্রীড়াশৈলীর অনন্য পীঠস্থান রাজশাহী স্টেডিয়াম রাজশাহীবাসীর অন্যতম গৌরবস্থল। এখানে ২০ হাজারেরও অধিক দর্শকের স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৬০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক খান মোহাম্মদ শামসুর রহমান এই স্টেডিয়ামের সূচনা করেন। পরবর্তীকালে জেলা প্রশাসক আর.পি.এ. নাজির এর পূর্ণ রূপায়ন করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটে রাজশাহীর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। রাজশাহীকে ক্রিকেটারদের জন্মভূমিও বলা যায়। পাকিস্তান আমল থেকেই রাজশাহীর শান্তিপ্রিয় ছেলেরা ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এক অনবদ্য ইতিহাসের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট রাজশাহীর গর্ব। জাতীয় ফুটবলে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তারা হলেন প্রয়াত ফিরোজ আহমেদ, শামসুল হক, জালু। কাবাডিতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রথমেই আসে সাবেক খেলোয়াড় রওশন ইয়াজদানী এর নাম। ভলিবলে যারা আছেন তারা হলেন মিঠু, সেলিম প্রমূখ।
ক্রিকেট ছাড়াও ফুটবল, সাতার, এথলেটিক্স, সাইক্লিং, ভলিবল, হকি ইত্যাদি খেলাধুলাতেও রাজশাহী সর্বদাই এগিয়ে আছে। প্রমত্ত পদ্মা নদী রাজশাহীতে জন্ম দিয়েছে অনেক নামী দামী সাতারুর।
রাজশাহী জেলা প্রশাসন রাজশাহীর জনগণের খেলাধুলার প্রতি এই প্রচন্ড আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভেন্যু হিসাবে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামকে মনোনীত করায় সারা রাজশাহী মেতেছে এক সাজ সাজ উৎসবে। সঠিক দিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা শান্তির নগরী রাজশাহীকে পরিণত করবে এক ক্রীড়া সূতিকাগারে।
|